গরমে ঠান্ডা তরকারি লাউ এর ১১টি রেসিপি একসঙ্গে

0

লাউ অনেকেই খুব পছন্দ করে থাকেন। লাউ দিয়ে রান্না করা যে কোনো কিছু তাদের পছন্দ। তবে সেই পছন্দের মধ্যে তো স্পেশাল ও থাকে। আর সেই স্পেশাল ১১টি রেসিপি দিয়ে এখন আমরা সাজিয়েছি লাউ এর রেসিপিগুচ্ছটি। দেখে নিতে পারেন লাউ এর ১১টি রেসিপি একসঙ্গে

পোলাওয়ে লাউপাতায় মোড়ানো ইলিশ

উপকরণ :

১. মাছ ৬ টুকরা,

২. আধা কেজি পোলাওয়ের চাল,

৩. সাদা সরিষাবাটা ৩ টেবিল চামচ,

৪. কাঁচা মরিচবাটা ৩ টেবিল চামচ,

৫. পেঁয়াজবাটা ১ টেবিল চামচ,

৬. রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ,

৭. লবণ স্বাদমতো,

৮. লাউপাতা পরিমাণমতো,

৯. সয়াবিন তেল পরিমাণমতো,

১০. ঘি পরিমাণমতো,

১১. আদার রস দুই চা-চামচ,

১২. পেঁয়াজের রস দুই চা-চামচ,

১৩. পেঁয়াজ বেরেস্তা পরিবেশনের জন্য,

১৪. কাঁচা মরিচ পরিবেশনের জন্য।

প্রণালি :

> প্রথমে মাছে ৩ টেবিল চামচ সাদা সরিষাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজবাটা, রসুনবাটা, লবণ পরিমাণমতো দিয়ে মেখে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর প্রতি টুকরা মাছকে পরিষ্কার লাউপাতা দিয়ে মুড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে রাখুন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে, একটু (দুই চা-চামচ) আদার রস, পেঁয়াজের রস দিয়ে ধোয়া পোলাওয়ের চাল কিছুক্ষণ ভেজে নিন। এর সঙ্গে ঘি দিন অল্প পরিমাণে। চাল হালকা লালচে হয়ে এলে পানি দিন এবং সেদ্ধ হওয়ার জন্য ঢেকে দিন। কিছুক্ষণ পর চাল ফুটে উঠলে সরিয়ে তাতে লাউপাতা মোড়ানো ইলিশগুলো ছেড়ে দিন। চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। ২০-২৫ মিনিট অল্প আঁচে চুলায় রাখুন। নামিয়ে নেওয়ার আগে দেখে নিন চাল পুরোপুরি সেদ্ধ হয়েছে কি না। এরপর পরিবেশনের আগে পেঁয়াজের বেরেস্তা, মরিচ দিয়ে পরিবেশন করুন।

লাউ চিংড়ির তরকারি

উপকরণ :
লাউ ছোট ছোট টুকরো করা অর্ধেক, 
চিংড়ি মাছ ২৫০ গ্রাম, 
পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল-চামচ, 
হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, 
মরিচ গুঁড়া অর্ধেক চা-চামচ, জিরা গুঁড়া, 
১ চা-চামচ,


কাঁচামরিচ আস্ত ৪/৫টি, 
ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল-চামচ, 
রসুন বাটা ১ চা-চামচ,
লবণ স্বাদ অনুযায়ী, 
তেল পরিমাণমত।

প্রস্তুত প্রণালী :
লাউ ধুয়ে টুকরো করে নিন। চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি ফ্রাইপ্যান বা কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে লাউ ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এরপর ভুনা চিংড়িগুলো একটি বাটিতে তুলে রাখুন। তারপর ওই মসলায় লাউ দিয়ে আবার কষিয়ে ঢেকে রান্না করুন। লাউ সেদ্ধ হয়ে এলে তাতে ভুনা চিংড়ি, জিরা গুঁড়া, ধনেপাতা কুচি ও কাঁচামরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ চুলায় রেখে দিন। লাউ মাখা মাখা করে নামিয়ে পরিবেশন করুন লাউ চিংড়ি তরকারি।

লাউ দিয়ে শিং মাছ

উপকরণ:
শিং মাছ ৪ টা
লাউ পরিমানমত
আদা রসুন বাটা ১/২ চা চামচ
পিঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ
হলুদ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ


ধনে-জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
লবণ স্বাদ মত
তেল পরিমান মত
জিরা ভাজা গুঁড়া (ইচ্ছা)
পিঁয়াজ বেরেস্তা (ইচ্ছা )

প্রণালী:
প্যানে তেল গরম পিঁয়াজ বাটা, আদা-রসুন বাটা দিয়ে কসাতে হবে। এরপর হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনে জিরা গুঁড়া, লবণ আর একটু পানি দিয়ে আরও একটু কসিয়ে মাছগুলো দিয়ে দিতে হবে।

মাছগুলো কিছুক্ষণ রান্না করে একটি বাটিতে আলাদা করে তুলে রাখতে হবে। এবার ওই ঝোলে লাউগুলো দিয়ে ভালো মত কষিয়ে প্রয়োজন মত পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। রান্না হয়ে আসলে মাছগুলো দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করে পিঁয়াজ বেরেস্তা আর ভাজা জিরার গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।

লাউ এর সিলকা ভর্তা

উপকরণ
✿ লাউ এর সিলকা-৩ কাপ,
✿ শুকনা মরিচ পোড়ানো-৪/৫টি,
✿ লবণ-পরিমাণ মতো,


✿ ধনে পাতা-সিকি কাপ,
✿ পিঁয়াজ কুচি-সিকি কাপ,
✿ সরিষার তেল-২ টেঃ চামচ।

প্রণালী:
লাউ-এর সিলকা ধুয়ে পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। এবার তেলের মধ্যে লাউ এর সিলকা ভেজে নিন। শুকনা মরিচ ভেজে নিন, পিঁয়াজ ভেজে নিন। ধনে পাতা কুচি করে নিন। এবার লাউ এর সিলকা, শুকনা মরিচ, পিঁয়াজ কুচি, ধনে পাতা কুচি সব এক সাথে পাটায় মিহি করে বেটে নিন। হয়ে গেল লাউ এর সিলকা ভর্তা।

পুর ভরা লাউ ফ্রাই

কচি আর চিকন লাউ বা চাল কুমড়া/জালি হলো এটার প্রধান শর্ত। লাউ বা চালকুমড়ার মুখের দিক থেকে তুলনা মু্লক শক্ত ২” এর মত বাদ দিয়ে নিতে হবে। তারপর লাউ কে পৌনে ১” এর মত করে গোল চাকা কেটে নিতে হবে।এরপর এর মাঝামাঝি জায়গায় চিরে নিতে হবে যেন শেষের দিকে আটকে থাকে। এবার চাক গুলোতে লবণ, হলুদ আর লাল মরিচ গুঁড়া মাখিয়ে রাখতে হবে।

উপকরণ:
পুর ও তৈরি:
আমি ৬ পিস করেছি তার জন্য নিয়েছিলাম একটা নারকেলের ১/২ মালার থেকে অর্ধেক নারকেল কোরানো। সাথে ৪ টা পাকা মরিচ (শুকনা না) কাঁচা মরিচ পাকাটা নিতে হবে।
বড় পিঁয়াজ ১ টা একসাথে বেটে নেয়া।


চিনি ১/২ চা চামচ
সরিষা বাটা দেড় চা চামচ
জিরা ও গোল মরিচ টেলে গুঁড়া করা পৌনে ১ চা চামচ

প্রণালী:
সবকিছু এক সাথে মেখে নিতে হবে লবণ আর হলুদ দিয়ে। মাখানো পুর লাউ-এর ভিতর সাবধানে ভরে নিতে হবে। এবার ভাজার পালা! কম তেলে ভাজবেন না বেশী তা সম্পূর্ণ আপনার পছন্দ। তবে তেলটা কোনভাবেই পুরের নিচের অংশ অতিক্রম করবে না মানে লাউ-এর অর্ধেক চেরা আংশের নিচে তেল থাকতে হবে না হলে ভাজার সময় পুর বের হয়ে আসবে।

তেল গরম হলে লাউ-এর টুকরা দিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিতে হবে। অল্প আঁচে সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ভাজতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন নিচে না লেগে যায়। ভাজা হলে নামিয়ে গরম ভাকের সাথে পরিবেশন করুন খুব মজার আর সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের পুর ভরা লাউ।

লাউশাক ভর্তা

উপকরণ:
✿ লাউয়ের পাতা ৬-৭টা,
✿ নারকেল কুড়ানো ৪ চা চামচ,
✿ সরিষা ২ চা চামচ,


✿ সেদ্ধ কাঁচামরিচ ২টা,
✿ প্রয়োজনমতো লবণ।

প্রণালী:
লাউশাক ভালো করে ধুয়ে সেদ্ধ করুন। শাকের সাথে কাঁচামরিচও সেদ্ধ করুন। শাক সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার নারকেল কুড়ানো, সরিষা, লবণ, সেদ্ধ করা শাক ও কাঁচামরিচসহ পাটায় পানি ছাড়া বেটে ভর্তা তৈরি করুন।

লাউয়ের পায়েশ

উপকরণ:
লাউ ১ টি (মাঝারি)
চিনি যার যার পচ্ছন্দ মতো
দুধ ২ লিটার


ঘি ২ টেবিল চামচ
এলাচ ২ টি
দারচিনি ২ টুকরো
তেজপাতা ১ টি
গোলাপ জল সামান্য (এটা কেউ চাইলে দিতে পারেন আবার নাও দিতে পারেন)

প্রণালী:
প্রথমে লাউয়ের খোসা ফেলে কেটে নিন। তারপর লাউয়ের মাঝখানের বিচিসহ নরম অংশ ফেলে দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। গ্রেটারে লাউ চিকন করে কুচিয়ে করে ও সিদ্ধ করে নিন। পানি ঝরিয়ে ঠান্ডা হলে চিপে পানি ফেলে দিন।

অন্য একটি পাত্রে ২ লিটার দুধ ফুটিয়ে ১ লিটার করুন। এরপর চিনি, এলাচ, দারচিনি, তেজপাতা যোগ করে দুধের মিশ্রণ ঘন করুন। পাত্রে ঘি ও সিদ্ধ লাউ দিয়ে ভেজে নিন। এবার দুধের ঐ ঘন মিশ্রণ দিয়ে ফুটে ঘন হয়ে আসলে গোলাপ জল দিলেই তৈরি হয়ে যাবে মজাদার লাউয়ের পায়েশ।

লাউ এর বিচি ভর্তা

উপকরন:
✿ এক কাপ মত লাউ এর বিচি,
✿ ৫-৬টা কাঁচা মরিচ,
✿ ১টা মাঝারি সাইজের পিয়াজ কুচি,


✿ ১-২কোয়া রসুন কুচি,
✿ লবন ও তেল পরিমান মত।

প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে লাউ এর বিচি সামান্য তেলে বাদামি করে ভজে নিতে হবে ।এর পর তেলে পিয়াজ কুচি ,রসুন কুচি,কাচামরিচ দিয়ে ভালো ভাবে ভেজেনিতে হবে।এর পর সব কিছু এক সাথে পাটাতে ভালো ভাবে মিহি করে বেটে নিয়ে সরিসার তেল দিয়ে মেখে পরিবেসন করুন লাউ এর বিচি ভর্তা।

লাউ দানা দিয়ে নারিকেল ভর্তা

উপকরণ:
লাউদানা আধা কাপ (একদম কচিও না আবার একদম বুড়াও না, এমন দানা নেবেন)। 
নারিকেল আধা কাপ (একদম ঝুনা নারিকেল নয় বরং একটু নরম নেবেন।
পেঁয়াজ ১টি, মাঝারি আকারের (মোটা করে কাটা)। 
রসুন ৩ কোয়া (মোটা করে কাটা)।


কাঁচামরিচ ৫/৬টি বা ঝাল অনুযায়ী। 
লবণ স্বাদমতো। 
ধনেপাতা অল্প। 
সরিষা সামান্য। 
তেল অল্প।

পদ্ধতি:
অল্প তেলে লাউদানা সামান্য লবণ দিয়ে ভাজতে হবে। আলাদা প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, সরিষা দিয়ে ভেজে নারিকেল আর লবণ দিয়ে ভাজতে হবে।
নামানোর আগে ধনেপাতা দিয়ে অল্প নেড়ে নামিয়ে শিলপাটা বা মিক্সারে পিষে নিন। একটু যদি নরম হয়, ঘাবড়াবার কিছু নেই। চাইলে অল্প তেলে আবার একটু ভেজে নিতে পারেন।
রং সবুজ রাখার জন্য কাঁচামরিচ ব্যাবহার করা হয়। চাইলে শুকনামরিচ তেলে ভেজে ব্যবহার করতে পারেন।

চিংড়ি দিয়ে লাউশাক ভর্তা

উপকরণ:
লাউশাক ১ আঁটি। 
খোসা ছাড়ানো ছোট চিংড়ি এককাপের তিনভাগের একভাগ। 
পেঁয়াজ ১টি মাঝারি আকারের (মোটা করে কাটা)।
রসুন ৩ কোয়া (মোটা করে কাটা)।


কাঁচামরিচ ৭/৮টি বা স্বাদ অনুযায়ী। 
লবণ স্বাদমতো। 
তেল অল্প।

পদ্ধতি:
আঁশ আর ডাটা বাদ দিয়ে লাউশাক বেছে নিতে হবে। চিংড়ি মাছ লবণ দিয়ে মাখিয়ে রাখুন। পাতিলে বা প্যানে বেশ কিছুটা পানি দিয়ে তাতে অল্প লবণ দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে শাকগুলো ছেড়ে দিতে হবে।
মিনিট দুই তিনেক রেখেই গরম পানি থেকে উঠিয়ে ফেলুন। তারপর প্যানে তেল দিয়ে লবণ মাখানো চিংড়ি, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ দিয়ে ভেজে তুলে রেখে, সেই তেলেই বেশি আঁচে শাক আর প্রয়োজন মতো লবণ দিয়ে ভাজা ভাজা করতে হবে যাতে পানি না থাকে।
এবার সব ভাজা উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে শিলপাটা বা মিক্সারে পিষে নিলেই ভর্তা তৈরি।

আলু দিয়ে লাউখোসা ভাজি

উপকরণ:
লাউয়ের খোসা আধা কাপ (একদম মিহি করে কুচি করা)। 
আলু ১ কাপ (লাউয়ের খোসার তুলনায় একটু মোটা করে কুচি করা)। 
পেঁয়াজ ১টি ছোট আকারের (কুচি করা)।


কাঁচামরিচ ৩/৪ টা (ফালি করা)।
হলুদগুঁড়া সামান্য। 
লবণ স্বাদ অনুযায়ী। 
ধনেপাতা ১ টেবিল-চামচ। 
তেল ২ টেবিল-চামচ।

পদ্ধতি:
প্যান ভালোমতো গরম করে তেল গরম করুন। পেঁয়াজ দিয়ে সোনালি করে ভেজে লাউয়ের খোসা, হলুদগুঁড়া আর লবণ দিন। নেড়ে ভালো করে মিশিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পাঁচ থেকে সাত মিনিট পর আলু আর ফালি করা কাঁচামরিচ দিন। খুব হালকা হাতে নাড়তে হবে যাতে আলু ভেঙে না যায়।
ভাজা হয়ে গেলে নামানোর আগে ধনেপাতার কুচি ছড়িয়ে দিয়ে লবণ চেখে নিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।
প্যান আর তেল ভালোমতো গরম করে না নিলে ভাজি লেগে যাবে, তা সে ননস্টিক প্যান-ই হোক আর অ্যালুমিনিয়াম কড়াই হোক।
লাউয়ের খোসার চেয়ে আলুর পরিমাণ সবসময়-ই একটু বেশি নিতে হবে, নয়ত একটু তেতো লাগতে পারে।

Share.